রেডিও স্বাধীন দেশ https://www.radioshadhindesh.com/2022/05/nafol%20seyeam%20-%20nofol%20seyeam%20-%20nafol%20roja%20.html

নফল সিয়াম - নফল সিয়ামের ফজিলত ও বিধান

শিখন ফলঃ

আমরা আজকের এ আর্টিকেল পড়ে জানতে পারব নফল সিয়াম কি - নফল সিয়ামের গুরুত্ব কী - নফল সিয়াম কত প্রকার - নফল সিয়ামের ফজিলত ফজিলত - রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তার জীবনে কেমন করে নফল সিয়াম পালন করেছে। তো প্রিয়া বন্ধু গন আশা করি আজকের এ আর্টিকেল পড়ে অনেক কিছু জানতে  পারবে।

নফল সিয়ামের ফজিলত

নফল সিয়াম কাকে বলে কী ফজিলতঃ

ফরজ ও ওয়াজিব রোজা ছাড়া অন্যান্য রোজাকে নফল রোজা বলা হয়; নফল মানে অতিরিক্ত, ফরজ বা ওয়াজিব নয়। মূলত এই নফল রোজা দুই প্রকার। প্রথম প্রকার হলো নির্ধারিত বা রাসুলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক পালনকৃত, এই প্রকার রোজা সুন্নত।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জীবনে কী কী সুন্নাত ও নফল সিয়াম পালন করেছেন?

নফল সিয়াম কত প্রকারঃ

আল্লাহ রাসুল (সাঃ) অনেক কষ্ট করেছন তার জীবনীতে আমরা তার ১℅ ও করতে পারব না। তাই বলে যে তিল পরিমাণ চেষ্টা করব না এমন কিছু না। রাসুলুল্লাহ সাঃ তার জীবনে প্রায় ১০ রকম নফল সিয়াম পালন করেছে।

১. শাওয়াল মাসের ৬টি রোযা

২. যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশকের সিয়াম

৩. আরাফার দিনের সওম

৪. মুহররম মাসের সওম

৫. আশুরার সিয়াম

৬. শাবান মাসের সওম

৭. প্রতি মাসে ৩ দিন সিয়াম

৮. সোমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম

৯. একদিন পর পর সিয়াম

১০. বিবাহে অসমর্থদের সিয়াম।

শাওয়াল মাসের ৬টি সিয়াম পালনের ফযীলত জানতে চাই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ

‘‘যে ব্যক্তি রমযান মাসে ফরয সিয়াম পালন করল, অতঃপর শাওয়াল মাসেও আরো ৬ দিন সওম পালন করল সে ব্যক্তি যেন সারা বছর ধরে রোযা রাখল।’’ (মুসলিম : ১১৬৪)

শাওয়ালের ৬টি রোযা কি একাধারে রাখব, নাকি মাঝে বিরতি দেয়া যাবে?

মাঝখানে বিরতি দেয়া যাবে। তবে একাধারে বিরতিহীনভাবে রাখলে সাওয়াব বেশি পাবে।

শাওয়ালে ৬টি রোযা উক্ত মাসে আদায় করতে পারে নি। পরের মাসে এগুলো কাযা করতে পারবে কি?

না, এ সুন্নাত সিয়াম কাযা করার নিয়ম নাই।

নফল সিয়াম রাখার ক্ষেত্রে নাবী (সাঃ) এর সুন্নাত

তিনি একাধারে এত বেশী নফল সিয়াম রাখতেন, যাতে বলা হত, তিনি আর কখনও সিয়াম ছাড়বেন না। আর যখন সিয়াম রাখা ছেড়ে দিতেন, তখন এমন বলা হত যে তিনি আর নফল সিয়াম রাখবেনই না। রমযান মাস ব্যতীত তিনি আর কোন পূর্ণমাস সিয়াম রাখেন নি। 

তিনি শাবান মাসের চেয়ে অধিক নফল সিয়াম অন্য কোন মাসে রাখেন নি। এ ছাড়া এমন কোন মাস তিনি পার করেন নি, যাতে তিনি নফল সিয়াম রাখেন নি। তিনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিন নফল সিয়ামর প্রতি খুবই যত্নশীল ছিলেন। 

কোন উযরবশত যদি ফরয রোযা কাযা হয়ে যায় তাহলে কাযা রোযা আগে রাখবে নাকি সুন্নাতের ৬ রোযা আগে রাখবে?

কাযা রোযা আগে রাখবে।

আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন- রসূল (ﷺ) আইয়্যামে বীযের (প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের) সিয়াম কখনই ছাড়েন নি। তিনি এই তিন দিন সিয়াম রাখার প্রতি উৎসাহও দিতেন। ইমাম নাসাঈ এরূপই বর্ণনা করেছেন। 

যুল-হাজ্জ মাসের প্রথম নয় দিন সিয়াম রাখার ব্যাপারে নাবী (ﷺ) থেকে মতভেদ রয়েছে।[1] শাওয়াল মাসের ছয় সিয়াম সম্পর্কে সহীহ সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন- শাওয়ালের ছয় সিয়াম রামাযানের সিয়ামর সাথে এক বছরের সিয়ামর সমান। আশুরার সিয়াম সম্পর্কে কথা হচ্ছে তিনি সকল নফল সিয়ামর মধ্যে আশুরার সিয়ামর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করতেন। 

তিনি যখন মদ্বীনায় আসলেন তখন দেখলেন ইহুদীরা আশুরার সিয়াম রাখছে। তিনি এই দিনের সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তারা বলল- এ দিন আল্লাহ্ তা‘আলা ফেরাউন ও তার বাহিনীকে ধ্বংস করেছেন এবং মুসা (আঃ) ও তাঁর সাথীদেরকে ফেরাউনের কবল থেকে উদ্ধার করেছেন। 

তখন তিনি বললেন- আমরা তোমাদের চেয়ে মুসার অনুসরণ করার অধিক হকদার। সুতরাং তিনি সিয়াম রেখেছেন এবং তাঁর সাহাবীদেরকেও সিয়াম রাখার আদেশ দিয়েছেন। আর এটি ছিল রামাযানের সিয়াম ফরয হওয়ার পূর্বের ঘটনা। 

যখন রামাযানের সিয়াম ফরয করা হল তখন তিনি বললেন- যার মন চায় সে যেন এই দিন সিয়াম রাখে আর যার মন চায়না সে যেন না রাখে। আরাফার দিন আরাফায় অবস্থান কালে রোযা রাখা তাঁর পবিত্র সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। 

সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম শরীফে সহীহ সূত্রে অনুরূপই বর্ণিত হয়েছে। সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন যে, নাবী (ﷺ) আরাফায় অবস্থানকারীদেরকে (হাজীদেরকে) আরাফা দিবসে সিয়াম রাখতে নিষেধ করেছেন। তাঁর থেকে সহীহ সূত্রে আরও বর্ণিত হয়েছে যে,

صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِى قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِى بَعْدَهُ আরাফা দিবসের সিয়াম পূর্বের ও পরের এক বছরের গুনাহ্ সমূহকে মোচন করে দেয়।[2] সারা বছর একটানা সিয়াম রাখা নাবী (ﷺ) এর সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত ছিলনা। 

তিনি বলেন- যে ব্যক্তি সর্বদা রোযা রাখল সে মূলতঃ সিয়াম রাখেও নি এবং সিয়াম ছাড়েও নি; বরং সে রসূল (ﷺ) এর পবিত্র সুন্নাতের বিরোধীতা করেছে।

তিনি অধিকাংশ সময় সকাল বেলা ঘরে প্রবেশ করে স্ত্রীদের কাছে জিজ্ঞেস করতেনঃ তোমাদের কাছে খাবার কিছু আছে কি? না সূচক উত্তর আসলে তিনি বলতেন- তাহলে আমি সিয়াম রেখে দিলাম। 

তিনি কখনও নফল সিয়ামর নিয়ত করতেন। অতঃপর তা ছেড়ে দিতেন। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে হাদীছে তিনি আয়িশা ও হাফসা (রাঃ) কে বলেছেন যে, তোমরা নফল সিয়ামর কাযা কর, তা মালুল তথা যঈফ হাদীস।

সিয়াম অবস্থায় কোন কোন গোত্রের কাছে গেলে তিনি সিয়াম পূর্ণ করতেন। যেমনটি তিনি করেছিলেন উম্মে সুলাইমের কাছে প্রবেশ করার সময়। উম্মে সুলাইম তাঁর আহলে বাইতের (পরিবারের) পদমর্যাদায় ছিলেন। সহীহ বুখারীতে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন- তোমাদের কাউকে যখন খানা গ্রহণ করার জন্য ডাকা হয়

শেষ কথাঃ

আজকের এ আর্টিকেল আপনাদের সঠিক ভাবে নফল সিয়াম পালন করতে পারার জন্য লিখা হয়েছে। আপনি যদি কোন ইবাদাত করেন আর সেটা যদি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর দেখানো সঠিক আমল নাা হয় তবে তা আগ্রহণ যোগ্য। আমরা নফল সিয়াম সঠিক ভাবে পালন করার তৌফিক দান করুক। এবং নফল সিয়াম সম্পর্কে যা কিছু বলা হলো সেই ভাবে আমল করার চেষ্টা রেখে আজ এখানেই। কথা হবে অন্য একটি আর্টিকেল সেই সময় পযন্ত সবাই ভালো থাকবেন।


অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

রেডিও স্বাধীন দেশ কী রেডিও স্বাধীন দেশ কেন জানতে আমদের সাইটি ভিজিট করুন