রেডিও স্বাধীন দেশ https://www.radioshadhindesh.com/2022/04/lailatul%20kadorar%20namaj%20kivaba%20porbo.html

লাইলাতুল কদরের নামাজ কিভাবে পড়বো - লাইলাতুল কদরের নামাজ পড়ার নিয়ম

মহিমান্বিত শব-ই-কদরের রাতকে মহান আল্লাহ তায়ালা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লুকিয়ে রেখেছেন। বান্দাহ বিনিদ্র রজনী কাটাবে, সবর করবে। আর এর মধ্যে খুঁজে পাবে সম্মানিত রাত, আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত। এছাড়াও এ রাতে ফেরেশতার অদৃশ্য মোলাকাতে সিক্ত হবে ইবাদতকারীর হৃদয়, আপন রবের ভালোবাসায় হবে সে উদ্বেলিত। এ যেন দীর্ঘ বিরহের পর আপনজনকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ। তাই এ তাৎর্যপূর্ণ রাতকে আমাদেরকে নামাজসহ বিভিন্ন ইবাদতের মধ্যে কাঁটিয়ে দিতে হবে।

নফল নামাজঃ

ন্যূনতম আট রাকাত থেকে যতো সম্ভব পড়া যেতে পারে। এ জন্য সাধারণ সুন্নতের নিয়মে দুই রাকাত নফল পড়ছিএ নিয়তে নামাজ শুরু করে শেষ করতে হবে। এ জন্য সূরা ফাতেহার সাথে আপনার জানা যেকোনো সূরা মিলিয়ে পড়লেই চলবে। কিছু ব্যতিক্রম নিয়মে সূরা ফাতেহার সঙ্গে ৩৩ বার সূরা আল কদর, ৩৩ বার ইখলাস পড়লেও অসুবিধার কারণ নেই। 

হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ৪ রাকয়াত নামাজ কদরের রাতে আদায় করবে এবং উক্ত নামাজের প্রতি রাকয়াতে সূরা ফাতিহার পরে ২১ বার করে সূরা ইখলাছ পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তিকে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ করে দেবেন এবং বেহেশতের মধ্যে এক মনোমুগ্ধকর মহল তৈরি করে দেবেন।

লাইলাতুল কদরের নামাজ কিভাবে পড়বো


অপর এক হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, হযরত রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কদরের রজনীতে ৪ রাকয়াত নামাজ আদায় করবে এবং উহার প্রতি রাকয়াতে সূরা ফাতিহার পরে সূরা ক্বদর ও সূরা ইখলাছ তিনবার করে পাঠ করবে, নামাজ শেষে সিজদায় গিয়ে নিম্নের দোয়াটি কিছু সময় পাঠ করে আল্লাহর দরবারে যাই প্রার্থনা করবে তিনি তাই কবুল করবেন এবং তার প্রতি অসংখ্য রহমত বর্ষিত করবেন।

শবে কদরের নামাজ দোয়াটি হলোঃ

সুবহানাল্লাহি ওয়াল্ হাম্দু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার

শবে কদরের রাতে নফল নামাজ পড়া উত্তম এবাদত। নফল নামাজ আদায় সম্পর্কে তাফসিরে রুহুল বয়ানে উল্লেখ আছে, হযরত ইসমাইল হক্কী (র.) উদ্ধৃত করেছেন, বুজুর্গানে দ্বীনগণ দশদিনের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদরের নিয়তে নফল নামাজ পড়তেন। প্রসিদ্ধ ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দী (র.) বলেন, ‘শবে কদরের নামাজে প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহার পর সূরা কদর ও তিনবার সূরা এখলাস পড়া। প্রত্যেক দুই রাকাতের পর সালাম ফিরিয়ে দরুদ শরীফ পাঠ করা তারপর দুই রাকাত করে যে যত নিয়ত করবে তত রাকাত নফল নামাজ আদায় করে নেওয়া। (তাফসিরে রুহুল বয়ান, ১০ম খণ্ড, ৪৮৩ পৃষ্ঠা)।

তবে প্রসিদ্ধ মত হচ্ছে এশার নামাজের পর দুই রাকাত করে ১২ রাকাত নফল নামাজ পড়া উত্তম। নফল নামাজ এশার ফরজ নামাজের পর আদায় করা যাবে। শবে কদরে নফল নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। নফল নামাজ পড়ার কারণে বান্দার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (তাফসিরে রুহুল বয়ান, ১০ম খণ্ড, ৪৮০ পৃষ্ঠা)। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি শবে কদরে সওয়াবের নিয়তে (নফল নামাজের জন্য) দণ্ডায়মান থাকে, তার অতীত সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়। (সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম)।

শবে কদরের দোয়াঃ

মহানবী (সা.) শবে কদরের রাতে এই দোয়া পড়তেন এবং পড়ার জন্য বলতেন। দোয়াটি হলো- আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বু তুহিব্বুল আফওয়া ফাঅফু আন্নি। এ প্রসঙ্গে একটি হাদিস আছে, উম্মুল মুমেনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলের খেদমতে আরজ করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.) যদি আমি শবে কদর সম্পর্কে জানতে পারি তবে আমি কি পড়বো? রাসুল (সা.) উত্তর দেন, এভাবে দোয়া প্রার্থণা করো- ইয়া আল্লাহ নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমা পছন্দ করো, তাই আমাকে ক্ষমা করো।’ (তিরমিজি, ৫ম খণ্ড, ৩০৬ পৃষ্ঠা, হাদিস- ৩৫২৪)। শবে কদরে সুরা কদর পড়লে বান্দার অনেক কল্যাণ হয়।

এ প্রসঙ্গে আমিরুল মুমেনিন হযরত আলী মুরতাজা শেরে খোদা (রা.) বলেন, ‘যে কেউ শবে কদরে সুরা কদর সাতবার পড়বেন আল্লাহ তাআলা তাকে প্রত্যেক বালা মুসিবত থেকে রক্ষা করেন। আর সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জান্নাত পাবার জন্য দোয়া করেন। (নুজহাতুল মাজালিস, ১ম খণ্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা)। 

মহিমান্বিত এই রজনীতে উচিত নিজেকে পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র রাখা, ফরজ নামাজ আদায় করে তার সঙ্গে সুন্নত, নফল নামাজ পড়া, কোরআন তেলাওয়াত করা, না পারলে তেলাওয়াত শোনা, বেশি পরিমাণে রাসুল (সা.) এর উপর দরুদ শরীফ পাঠ করা, না ঘুমিয়ে রাতভর জিকির আসকার করা,দোয়া মোনাজাতে শামিল হওয়া, বেশি করে দান সদকা দেয়া, অনাহারির মুখে ভাল খাবার তুলে দেয়াসহ যত ভাল কাজ আছে সবকিছু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।

তাই আসুন!আমরা সবাই শব কদরের এই ভাগ্য রজনিকে হেলায় নষ্ট না করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য ইবাদতে মশগুল থাকি।



অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

রেডিও স্বাধীন দেশ কী রেডিও স্বাধীন দেশ কেন জানতে আমদের সাইটি ভিজিট করুন