রেডিও স্বাধীন দেশ https://www.radioshadhindesh.com/2022/03/blog-post_28.html

সুস্থ শিশুর জন্য গর্ভবতী মায়ের খাবার - সুস্থ শিশুর জন্য মায়ের খাবার

সুস্থ শিশুর জন্য গর্ভবতী মায়ের খাবার - কলা পটাসিয়াম এর অন্যতম প্রধান উৎস, তাছড়া ভিটামিন-বি৬ ভিটামিন-সি ও ফাইবার থাকে। নিয়মিত কলা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় না যা একজন গর্ভবতী মায়ের অনেক সমস্যা। আপেলে প্রচুর ফাইবার আছে ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় নয় তাছাড়া এতে আছে ভিটামিন-সি। চর্বিহীন মাংস মুরগীর মাংস মাছ ডিম ডাল প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। সপ্তাহে কমপক্ষে ২দিন বা তার বেশী মাছ খেতে হবে।

সুস্থ শিশুর জন্য গর্ভবতী মায়ের খাবার - সুস্থ শিশুর জন্য মায়ের খাবার


প্রোটিন গর্ভের শিশুর নুতন টিস্যু গঠনে সাহায্য করে। প্রোটিন সুস্থ স্বাভাবিক শিশু ও মায়ের জন্য খুব জরুরি। পর্যাপ্ত প্রোটিন এর অভাব এ অপুষ্ট হয়। প্রথম ৩ মাস প্রতিদিন'৫gm পরের ৩ মাস ২২'৫ gm এবং শেষ ৩ মাস ৭৮ গ্রাম প্রোটিন দরকার। 200ml দুধ থেকে ৭গ্রাম,ডাল থেকে ৭গ্রাম,একটা ডিম থেকে ১৩গ্রাম বাদাম (৩০গ্রাম)থেকে ৬গ্রাম ও চিকেন(একটা লেগ) থেকে ১৯গ্রাম প্রোটিন পেতে পারি।

সূচিপত্রঃ

সুস্থ শিশুর জন্য গর্ভবতী মায়ের খাবারঃ

সুস্থ শিশুর জন্য গর্ভবতী মায়ের খাবার - শর্করা খাবারের তালিকায় লাল ভাত ও লাল রুটিকে প্রাধান্য দিতে হবে। মাছ, চর্বিহীন মাংস, ডিম, বাদাম বা ডাল, এবং কিছু দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ খেতে হবে কারণ প্রোটিন, ভিটামিন ডি, খনিজ ও ওমেগা -3 ফ্যাট থাকে। যা শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ।

গর্ভবতী মায়ের কি কি খাবার খাওয়া উচিত নাঃ

গর্ভবতী মায়ের কি কি খাবার খাওয়া উচিত না - স্প্রাউট, লেটুস এবং বাঁধাকপির মতো না ধোয়া কাঁচা শাকসবজি বিশেষ করে এই সময় এড়ানো উচিত। গর্ভাবস্থায় যে ফলগুলি খাওয়া যাবে না তার মধ্যে রয়েছে পেঁপে, আনারস এবং আঙ্গুর। আসলে, কিছু সংস্কৃতিতে, গর্ভধারণ এড়ানোর জন্য প্রাকৃতিক খাবারের তালিকায় পেঁপে রয়েছে এবং এটিকে গর্ভস্রাবের কারণ বলে মনে করা হয়।

৮ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকাঃ

৮ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা - এই সময় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, এবং চর্বি সমন্বিত খাদ্য খাওয়া উচিৎ। এই সব উপাদান সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে শিম, মুরগির মাংস, দুধ, ডিম, মিষ্টি আলু, কম পারদ যুক্ত মাছ, সয়া দুধ, টফু, শুকনো বাদাম ইত্যাদি। গর্ভাবস্থার অষ্টম মাসে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

সুস্থ্য শিশুর জন্য গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকাঃ

সুস্থ্য শিশুর জন্য গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা - গর্ভধারণকালে প্রচুর পরিমানে রঙিন সবজি খাওয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ক্রমবর্ধমান শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি রঙিন সবজি থেকে পেতে পারেন। সবজিগুলোর মধ্যে খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন যেসব তা হচ্ছে- গাজর, পালং শাক, কুমড়ো, মিষ্টি আলু, টমেটো, ক্যাপসিকাম, ব্রোকোলি, বাঁধাকপি, ভুট্রা, সজনে ডাটা, বেগুন ইত্যাদি।

সুস্থ্য শিশুর জন্য গর্ভবতী মায়ের খাবারে অতিরিক্ত যত্নঃ

সুস্থ্য শিশুর জন্য গর্ভবতী মায়ের খাবারে অতিরিক্ত যত্ন - একটি শিশুর জন্য মা হলো বটবৃক্ষের মত। মায়ের অফুরন্ত স্নেহ ভালো বাসায় শিশুর নিরাপদে বেড়ে উঠা। তাই সবার আগে মায়ের সঠিক পুষ্টি। সুস্থ ও স্বাভাবিক সন্তান জন্মদানের প্রধান শর্ত হলো গর্ভবতী মায়ের সঠিক Balance diet ও পরিচর্যা। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম এর ব্যবস্থা করতে হবে। মায়ের অপুষ্টি ও বেশি ওজন দুটোই সুস্থ বাচ্চার পরিপন্থী। কাজেই Balance diet এবং স্বাভাবিক ওজন খুব জরুরি। 

  • প্রানীজ আমিষ হওয়া জরুরী
  • নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।
  • চিনি যুক্ত পানি এড়িয়ে চলতে হবে। 
  • এমকি Osteoporosis হতে পারে।
  • কাচা ডিম অর্ধ সিদ্ধ মাংস কাচা দুধ নিষেধ। 
  • আয়োডিন এর উৎস সামুদ্রিক মাছ ও ডিম দই।
  • মাছ মাংস বাদাম শাকসবজি আয়রন এর উৎস। 
  • কারবোহাড্রট ভাত আলু রুটি ইত্যাদি এনার্জি দেয়।
  • দিনে অন্তত ২/৩ ফল ও ৩/৪ বার সবজী খেতে হবে। 
  • গর্ভকালীন প্রতিবেলায় অন্তত একমুঠ বেশি করে খেতে হবে।
  • FDA approve অন্তত ৩ কাপ দুধ খেতে হবে প্রতি দিন। 
  • আয়োডিন যুক্ত খারার শিশুর মস্তিষ্কের সঠিক বৃদ্ধিতে অনেক জরুরী। 
  • চিকিৎসক এর পরামর্শে ভিটামিন জিন্ক ও ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট নিতে হবে। 
  • ডিম এমাইনোএসিড ও কোলিন সমৃদ্ধ যা শিশুর মস্তিষ্কের গঠন ও স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি করে।
  • ফলিক এসিড আয়রনের ঘাটতি পুরোন সহ গর্ভের শারীরিক গঠন ও রক্ত তৈরী তে সাহায্য করে। 
  • প্রতিদিন ২/৩টুকরা মাছ,৩/৪ টুকরো মাংস চিকন ও ফ্যাট Free মাংস ও একটি ডিম খেতে হবে। 

  • গর্ভাবস্থায় কফি চা তামাক না খেলে ভালো এতে কম ওজনের বাচ্চা হতে পারে ও Abortion হতে পার।

সুস্থ শিশুর জন্য গর্ভবতী মায়ের ছবি

সুস্থ শিশুর জন্য গর্ভবতী মায়ের ছবি

১। জান্ক ফুড, তামাক,অতিরিক্ত চিনি লবন যুক্ত খাবার,অতিরিক্ত চা কফি ও বেকারীর খাবার পরিহার করতে হবে। 

২। প্রতিদিন ৫/৬ বার খেতে হবে, ৩বার সুষম খাবার এবং ২/৩ বার স্নাকস অর্থাৎ বাদাম, সালাদ গ্রীন টি বিস্কুট খেতে হবে।

৩। আমাদের দেশে ২৯% মা অপুষ্টিতে ভুগছে ফলে কম ওজনের শিশু জন্ম নেয় এবং শিশুর জীবনে পুষ্টিহীনতার চক্রশুরু হয়।

৪। 1st trimister এ ১০০ ক্যালরী বেশী এবং 2nd and 3rd trimister প্রতিদিন ৩০০ ক্যালরী বেশি প্রয়োজন। 

৫। সব মায়ের স্বপ্ন থাকে বাচ্চা যেন বুদ্ধিমান ও মেধাবী হয়। গর্ভাবস্থায় মা কি খায় সেটা বাচ্চার মানষিক ও শারীরিক গঠনে ভুমিকা পালন করে । 

৬। প্রচলিত আছে সুস্থ মা সুস্থ সন্তান। গর্ভবতী মা অপুষ্টিতে ভুগলে বাচ্চার ওজন কম হয়,বাচ্চার বুদ্ধির বিকাশ ঠিকমত হয় না ও স্বাস্থ্য ভালো থাকে না।

৭। অবশ্যই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকে হবে। গর্ভবতী মায়ের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতে হবে। দুপুরে ২ঘন্টা ও রাতে ৮ ঘন্টা বিশ্রাম নিতে হবে। 

৮। গর্ভকালীন ৯-১১কেজি ওজন বৃদ্ধির টার্গেট থাকতে হবে। একজন গর্ভবতী মাকে অবশ্যই নিদিষ্ট ওজন বাড়াতে হবে, না হলে তিনি অপুষ্টিতে ভুগবেন( Ref ACOG)

৯। শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে উঠা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও দৃষ্টি শক্তি ঠিক রাখার জন্য ভিটামিন-এ প্রয়োজন। মুরগির কলিজা ডিম গাজর আম হলুদ ফলমুল গাড় শাকসবজি চাই। 

১০। শুধু মাত্র গর্ভবতী মায়েরাই পারে তার গর্ভাব্স্থায় প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণ করে গর্ভের বাচ্চার সুস্থতা নিশ্চিত করতে। সুস্থ থাকতে Balance diet জরুরি এটা গর্ভাবস্থায় আরো বেশী জরুরী।

১১। কার্বোহাইড্রট প্রতি দিন মোট ক্যালীর ৬৫% হতে হবে। Most Pregnant and Lactating Mother মাকে ১৭৫ থেকে ২১০গ্রাম কার্বোহাইড্রেট প্রতি দিন খেতে হবে (Ref ACOG)

১২। গর্ভাবস্থায় জিন্ক কম হলে কম ওজনের শিশু জন্ম নেয় ও Growth Development কম হতে পারে। ফুলকপি, সবুজ সিম, টমেটো, দুগ্ধ জাতীয় খাবার, ডাল ও বাদামে পর্যাপ্ত জিঙ্ক পাওয়া যায়। 

১৩। ফলিক এসিড মস্তিষ্কের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ, যেসব মহিলা প্রসবের ৪সপ্তাহ আগে ও পরে ৮ সপ্তাহ অবধি ফলিক এসিড তাদের বাচ্চার অপুষ্ট হওয়ার চান্স কম। সবুজ শাকসবজি পালংক শাক ডাল ইত্যাদি তে ফলিক এসিড পাওয়া যায়। 

১৪। ফ্যাট is very important for good health and Nutrition for both baby and mother. মাছ সোয়াবিন ওলিভ ওয়েল Peanut sunflower oil থেকে প্রচুর পরিমানে ফ্যাট পাওয়া যায়। 

১৫। Harvard School and Public Health লাল মাংস ও প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলতে বলেছে। প্রচুর পানি খেতে হবে। ডায়াবেটিস থাকলে মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে এবং হাই ব্লাড প্রেসার থাকলে লবন কম খেতে হবে।

১৬। যে সব মা পুরো pregnancy তে ফলিক এসিড নিয়মিত খেয়ে থাকে তাদের বাচ্চার জন্মগত Nural tube detect কম হয়। সন্তান নেয়ার চিন্তা করলে তিন মাস আগে থেকে ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার গুলো বেশী করে খেতে হবে। 

১৭। ক্যালসিয়াম নবজাতকের দাঁত ও হাড়ের গঠনের জন্য গর্ভবতী মায়ের প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম দরকার। দুধ দই ক্যালসিয়ামের আদর্শ উৎস। ডাল, বাদাম ,মাছ ,কমলা ও আংগুর এ প্রচুর ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।গর্ভ কালে নারীদের ক্যালসিয়ামের চাহিদা বেড়ে যায়।

১৮। ভিটামিন-ডি important for Calcium absobtion,Enhance immunity and brain health. 20 মিনিট Sunlight লাইটে এ থাকলে পর্যাপ্ত ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়। তাছাড়া oily fish,Mushroom fortified Cereals milk chees গাড় সবুজ শাকসবজী তে আছে প্রয়োজনীয় ভিটামিন-ডি।

১৯। আয়রন অক্সিজেন carry করে মা এবং বাচ্চার শরীরে, মা ও গর্ভের বাচ্চার immunity বাড়ায়।শরীরে পর্যাপ্ত আয়রন থাকলে রক্ত তেরী হয়। মায়ের শরীরে আয়রন কম থাকলে Preterm Low birth weight বেবীর জন্ম হতে পারে। শিশুর অকাল মৃতু হতে পারে। ডিম কলিজা প্রথম ৫মাস শিশু র ওজন ১gm করে বাড়ে ও ৫মাস পর থেকে ১০gm করে বাড়ে। শেষ ২মাসে শিশুর ওজনের অর্ধেক বাড়ে।

ডাক্তার প্ররিচিতিঃ
ডা. মো. আতিকুর রহমান আরিফ 
এমবিবিএস 
সহকারী রেজিস্ট্রার (শিশু বিভাগ)
বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী ।
           ও 
জেনারেল ফিজিশিয়ান 
ডাক্তার খানা কৃষ্ণপুর শাখা ।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

রেডিও স্বাধীন দেশ কী রেডিও স্বাধীন দেশ কেন জানতে আমদের সাইটি ভিজিট করুন