রেডিও স্বাধীন দেশ https://www.radioshadhindesh.com/2022/03/In%20addition%20to%20breast%20milk%20the%20babys%20first%20extra%20food.html

মায়ের দুধের পাশাপাশী শিশুর বাড়তি খাবার - ৫-১২ মাসের শিশুর খাবার তালিকা

মায়ের দুধের পাশাপাশী শিশুর প্রথম বাড়তি খাবারঃ

মায়ের দুধের পাশাপাশী শিশুর প্রথম বাড়তি খাবার - বাড়তি খাবার বলতে আমরা মায়ের দুধের পাশা-পাশি শিশুর খাবার চাহিদা মেটানোর জন্য অতিরিক্ত খাবার খাওয়াকে শিশুর বাড়তি খাবার বলে।

মা হবার পর মায়ের সব চিন্তার কেন্দ্র বিন্দু বাচ্চা কে নিয়েই । যে কোন কাজ করার সময় চিন্তা বাচ্চার ক্ষতি হবে না তো। বাচ্চার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্মে প্রথম ৬মাস মায়ের দুধই যথেষ্ট একফোঁটা পানিরও প্রয়োজন হয় না। আমরা শিশুদের বাড়তি খাবার দেব ৫ মাস পর থেকে।

আরও পড়ুনঃ শিশুর ওজন / শিশুর ওজন কীভাবে বাড়াবেন / কীভাবে কমাবেন

কারণ মায়ের কাছে থাকা দুধ থেকে  অনেক পরিমাণ পুষ্টি এবং আল্লাহ্‌ পদত্ত একটা নেয়ামত। তাই আমরা খেয়াল রাখবো আমদের শিশুর ৫ মাস বয়স হয়েছে কি না যদি হয় তবে দুধের পাশা-পাশি অন্য খাবার খাওয়াব। আর যদি না ৫ মাস হয় তবে আমদের অন্যান্য খাবার খাওয়ানর দরকার নাই। 

মায়ের দুধের পাশাপাশী শিশুর প্রথম বাড়তি খাবার



বাড়তি খাবার বলতে_ আমরা মায়ের দুধের পাশা-পাশি শিশুর খাবার চাহিদা মেটানোর জন্য অতিরিক্ত খাবার খাওয়াকে শিশুর বাড়তি খাবার বলে।

সূচিপত্রঃ

৫ মাসের শিশুর খাবার তালিকাঃ

৫ মাসের শিশুর খাবার তালিকা - ডালের মধ্যে মুগ ডাল, মুসুরির ডাল সেদ্ধ বা ডালের জল বাচ্চাকে খাওয়াতে পারেন। সবজির মধ্যে মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়ো, আলু, গাজর, মটরশুঁটির মতো সবজি ভর্তা বানিয়ে বা স্যুপের মধ্যে চটকে বাচ্চাকে খাওয়ান (Sisur Khabar)। রাগি, বার্লি, সাবু, ওটসের পরিজ এবং নরম ভাত রাখুন বাচ্চার খাদ্যতালিকায়।

৬ মাসের শিশুর খাবার তালিকাঃ

৬ মাসের শিশুর খাবার তালিকা - ছয় মাস বয়স থেকে শিশুকে একটু শাক, গাজর, ডাল, টমেটো, সামান্য তেল দিয়ে খিচড়ি রান্না করে খাওয়াতে পারেন। তবে খিচুড়িতে মরিচ দেবেন না। এছাড়া মাছ বা মুরগির খিচুড়ি, সুজি, পায়েস, ডিমের পাতলা নরম হালুয়া, ফলের রস, সবজি সিদ্ধ করে ম্যাস করে শিশুকে সুস্বাদু খাবার বানিয়ে খাওয়াতে হবে।

৭ মাসের শিশুর খাবার তালিকাঃ

৭ মাসের শিশুর খাবার তালিকা - ৮-৯ মাসের বাচ্চাকে কী কী খাবার দেওয়া যায়? (Foods for 8-9 Months Old Baby) ফলের মধ্যে আপেল, আম, কলা, নাশপাতি, অ্যাভকাডো, পিচ ফল, পেঁপে তো ৭ মাস থেকেই খাচ্ছে। এবার ওর তালিকায় ঢুকবে, খেজুর, স্ট্রবেরী , বেদানা, কিউই ও আঙুর। ফলের ভর্তা খাচ্ছে খাক, তবে এবার অভ্যেস করাতে হবে নিজে নিজে খাওয়ার।

৮ মাসের শিশুর খাবার তালিকাঃ 

৮ মাসের শিশুর খাবার তালিকা - গাজর, কুমড়ো ,মটর, বিন্স ,আলু ,মিষ্টি আলু, ব্রকলি, ফুলকপি, টমেটো, বীট,পালং শাক ,ব্রকলি ,বাঁধাকপি ,লাউ ,ক্যাপসিকাম ,চিচিঙ্গা ,বেগুন, ওলকপি। চাল,সুজি, রাগি ,বার্লি, ওটস, সাবুদানা ,মুড়ি,কুইনোয়া ,মুসুর ডাল, মুগ ডাল ,দালিয়া, ছোলা, চিড়ে, আটা। ঘি ,পনীর ,দই ,চীজ , বাটার। মাছ ,ডিমের কুসুম, মুরগির মাংস।

৯ মাসের শিশুর খাবার তালিকাঃ

৯ মাসের শিশুর খাবার তালিকা - যার মধ্যে ফল ও সবজি যেন অবশ্যই থাকে। শিশুকে সব ধরনের পুষ্টির জন্য সব রঙের সবজি খাওয়ান। সবুজ সবজি (যেমন মটর, বিন্স, শিম ,ক্যাপসিকাম,ব্রকোলি ইত্যাদি )সাদা সবজি (আলু,ফুলকপি ,রাঙা আলু,ওলকপি ইত্যাদি )লাল রঙের সবজি (টমেটো ,রেড বেল পেপার ইত্যাদি ) হলুদ সবজি (কুমড়ো ,গাজর, হলুদ বেল পেপার ইত্যাদি) এগুলো খাওয়াতে হবে।

১০ মাসের শিশুর খাবার তালিকাঃ

১০ মাসের শিশুর খাবার তালিকা - এই বয়সের শিশুদের নানা ধরণের ফল, শাক সবজি,এবং মাংস প্রভৃতি খাবারের পাল্লাটি অনেকটা বিস্তৃত। বুকের দুধ বা ফরমূলা দুধের সাথে সাথে নানা ধরণের জলখাবার এই 11 মাস বয়সী বাচ্চাদের প্রতিদিন খাওয়া প্রয়োজন। মূল খাবার এবং জলখাবারের সময় নির্ভর করবে তার এবং আপনার রূটিন এর ওপর।

১১ মাসের বাচ্চাকে কী কী খাবার দেওয়া যায়ঃ

১১ মাসের শিশুর খাবার তালিকা - ১০-১২ মাসের বাচ্চাকে কী কী খাবার দেওয়া যায়? (Foods for 10-12 Months Old Baby) ফলের মধ্যে আপেল, আম, কলা, নাশপাতি, অ্যাভকাডো, পিচ ফল, পেঁপে, খেজুর, স্ট্রবেরী , বেদানা, কিউই ও আঙুরের সাথে এবার আসতে পারে কমলালেবুর। নরম ফল এমনভাবে কেটে দিন যাতে ও হাতে ধরে মুখের কাছে নিয়ে যেতে পারে।

১২ মাস বয়সের শিশুর খাদ্য তালিকাঃ

১২ মাসের শিশুর খাবার তালিকা - এজ সময় প্রায় শিশুদের বড়দের মত খাবার দেওয়া যেতে পারে । আগের তুলনায় আরো অনেক এবং ঘন খাবার শিশুরা খেতে পারে। যেমন, নরম খিচুড়ি, সিদ্ধ ডিম, ডাল, ভাত, দুধ-রুটি, দই, ক্ষীর, পুডিং ইত্যাদি খাবারগুলো শিশুকে খাওয়াতে হবে। এগুলো পুষ্টি পরিপূরকও বটে।

মায়ের দুধের পাশাপাশী দেড় বছরের শিশুর খাবার তালিকাঃ 

দেড় বছরের শিশুর খাবার তালিকা - ডালের মধ্যে মুগ ডাল, মুসুরির ডাল সেদ্ধ বা ডালের জল বাচ্চাকে খাওয়ান। সবজির মধ্যে মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়ো, আলু, গাজর, মটরশুঁটি, ফুলকপি, ব্রকলি, কুমড়ো ইত্যাদি সব সবজি খাবে বাচ্চা। রাগি, বার্লি, সাবু, ওটসের নরম পদ, ভাত, সাবু, আটার পাতলা রুটি রাখুন বাচ্চার রোজের খাদ্যতালিকায়। এবার বাচ্চা খেতে পারবে ডিমের সাদা অংশও।

আরও পড়ুনঃ বাসে/গাড়িতে উঠলে বমি করা বন্ধে করনীয় / বমি বন্ধ করা ট্যাবলেট সমূহ

  • শিশুর  জীবনের প্রথম বছরের  মাইল ফলক বাড়তি খাবার গুলো শুরু করা।
  • অনেক নুতন মা বুঝতে পারেন কখন কি ভাবে কি পরিমাণ খাওয়া বাচ্চাকে দিতে হবে।
  • ৬ মাস পর থেকে মায়ের দুধ এ বাচ্চার চাহিদা মেটাতে পারে না তাই বাড়তি খাবার গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। 
  • শিশু স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বুদ্ধি ও বিকাশ এর জন্য ৬মাস পর মায়ের দুধ এর পাশাপাশি যে খাবার দেয়া হয় তাকেই বাড়তি খাবার বলে।
  • সুজি গাজর দুধ,আলুর চপ,কলিজা, বাদাম একসাথে অথবা আলাদা ভাবে খাওয়াতে পারেন। এক বছর পর থেকে গরুর দুধ খাদ্যের সাথে।
  • তারপর শাকসবজি মিক্সিং করে খিচুড়ি তৈরি করতে হবে(সবজী কলা পেপে লাউ ইত্যাদি )। ৯ থেকে ১২মাসের মধ্যে মাছ,ডিম,চিকেন শুরু করতে হবে। 
  • শুরু তে শক্ত কিছু মুখে দেয়া যাবে না যেমন কলার পিস,আঙ্গুর বা অন্য কিছু। এসময় পেয়ার আঙ্গুর আমলকি আপেল ইত্যাদি ফল জরুরি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় জন্য। 
  • যদি শিশু করো সাহায্য ছাড়া বসতে পারে, বড়দের খেতে দেখলে খাবার জন্য হা করে আগ্রহ প্রকাশ করলে অথবা খাওয়ার প্লেটের দিকে তাকিয়ে থাকে তাহলে বুঝতে হবে শিশু বাড়তি খাবার জন্য প্রস্তুত।
  • ৬-৮ মাস ২-৪ চামচ দিনে ২-৩ বার এভাবে ক্রমাগত বাড়াতে হবে,৯- ২৪ মাসে  ৩-৪ বার খাওয়াতে হবে। এ সময়ে বাচ্চাদের ছোট ছোট টুকরো করে ফিঙ্গার ফুড দিতে হবে যাতে বাচ্চারা চিবাতে পারে ১-২বার স্নাক্স হিসাবে।
  • যারা প্রথম বার মা হয়েছেন তারা অনক দুচিন্তায় থাকেন। পেস্ট করে খাওয়াতে হবে, প্রথমের দিকে খাওয়া পাতলা হবে তারপর ঘনত্ব বাড়াতে হবে। যখন ঘনত্ব বাড়াবেন তখন পানি কমিয়ে দুধ বা ঘি বা তেল মিশালে খাদ্যের গুনগত মানও  অনেক বৃদ্ধি পায়।
  • প্রথম সপ্তাহে ২৪ঘন্টায় ১বার,দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দিনে ২ বার।এভাবে আস্তে আস্তে বাড়াতে হবে। শুরুতে একসঙ্গে কয়েক ধরনের খাবার দেয়া যাবে না।একটা নতুন খাবার পর ৫/৭দিন অপেক্ষা করতে হবে অন্য একটি নতুন খাবার আগে। এসময় খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চার মল কেমন হচ্ছে ও এলার্জি হচ্ছে কি না।

মায়ের দুধের পাশাপাশী শিশুর আরও কিছু বাড়তি খাবারঃ

  • ৯-১২মাসের মধ্যে পারিবারিক ডায়েট দিতে হয়।
  • মিক্স করে অথবা আলাদা ভাবে খাওয়াতে পারেন। 
  • শুয়ে খাওয়নো যাবে না Choking বা গলায় আটকানোর ভয় থাকে। 
  • মনে রাখবেন আপনারা যা খাওয়াবেন তা অবশ্যই বাড়িতে রান্না করে খাওয়াতে হবে।
  • মনে রাখতে একটা একটা করে খাবার শুরু করতে হবে,একাধিক খাবার একসাথে দেয়া যাবে না।
  • ৬মাস পর থেকে বাচ্চা কে নিয়মিত পানি খাওয়াতে হবে। শুরুতেই বাচ্চাদের খাওয়াতে লবন বা চিনি মেশানবে না।
  • প্রথম ই কলা দিয়ে শুরু করতে হবে,কলা পেস্ট করে খাওয়াতে হবে।তারপর খিচুড়ি প্রথমে ডাল+ ভাত+সোয়াবিন তেল।
  • মনে রাখবেন ১বছর পর্যন্ত প্রথমে মায়ের দুধ তারপর বাড়তি খাবার, ১বছর পর আগে বাড়তি খাবার তারপর মায়ের দুধ খাওয়াবেন।
  • বাচ্চাকে অবশ্যই বসে খাওয়াতে হবে  চোখে চোখ রেখে এবং ধৈর্য সহকারে। বাচ্চার খাদ্য যেন অবশ্যই Fresh Colour full ও Hygenic  হয়।
  • শুরু তে শক্ত কিছু মুখে দেয়া যাবে না যেমন কলার পিস,আঙ্গুর বা অন্য কিছু। এসময় পেয়ার আঙ্গুর আমলকি আপেল ইত্যাদি ফল জরুরি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় জন্য।

উপরে সকল বিষয় আপনাদের উপকার কারার জন্য দেওয়া আছে যদি কিছু ভুল হয় তাহলে আমাকে কমেন্ট করে যানাতে পারেন কারণ মানুষ মাত্র ভুল হয়। আর যদি আমর ওয়েব সাইট টি ভালো লেগে থাকে তবে চাইলে পাশে থাকতে পারেন।

ডাক্তার প্ররিচিতিঃ
ডা. মো. আতিকুর রহমান আরিফ 
এমবিবিএস 
সহকারী রেজিস্ট্রার (শিশু বিভাগ)
বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী ।
           ও 
জেনারেল ফিজিশিয়ান  
ডাক্তার  খানা কৃষ্ণপুর শাখা ।
আরও পড়ুনঃ ]

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

রেডিও স্বাধীন দেশ কী রেডিও স্বাধীন দেশ কেন জানতে আমদের সাইটি ভিজিট করুন