Radio Shadhin Desh https://www.radioshadhindesh.com/2021/10/urine-infaction.html

ঘন প্রস্রাব কেন হয়

ঘন প্রস্রাব কেন হয় ,

প্রস্রাবে সমস্যা একটি কমন সমস্যা যা সকল বয়সের ছেলে মেয়েরই হতে পারে ।তবে দৈনন্দিন জীবনে প্রসাবে সমস্যা হওয়ার সাধারণ কিছু কারন থাকে জটিল কোন অসুখ না হলে এসকল সমস্যা অতিরিক্ত পানি খেলে এবং মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করলে সমাধান হয়ে যায়।
তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রসাবের সমস্যায় গুরুত্ব দেয়া উচিত।আজ প্রসাবের এসকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে যারা প্রসাবের সমস্যায় ভুগছেন তারা অবশ্যই সময় নিয়ে পড়বেন আসাকরি উপকৃত হবেন। 

প্রসাবে জ্বালাপোড়া প্রস্রাব ক্লিয়ার না হওয়া, প্রস্রাব আটকে থাকা, মূত্রনালী সরু হয়ে যাওয়া, ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব হওয়া, প্রসাবের রঙ লাল হওয়া বা প্রসাবের রাস্তায় ব্যাথা হওয়ার নানা কারন থাকে এর মধ্যে আপনার সাথে কোন সমস্যা মিলে গেলে অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে পড়বেন। 

শীতের সময়, অনেক লোক তাদের শরীরকে সুন্দর এবং টোস্ট রাখতে লেয়ার আপ করার প্রবণতা রাখে। যখন বাথরুম ব্যবহার করার সময় আসে, তখন এই সমস্ত আইটেমগুলি থেকে বেরিয়ে আসা বেশ অগ্নিপরীক্ষা হতে পারে এবং দুর্ভাগ্যবশত, অনেক লোক মনে করে যে ঠান্ডা হলে তাদের মূত্রাশয় দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়।

আপনার এলাকার ঠান্ডা তাপমাত্রার জন্য আপনি সেই অনুযায়ী পোশাক পরতে পারেন, কিন্তু এর মানে এই নয় যে আপনার শরীর হিমায়িত শীতের আবহাওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানাবে না। শীতকালে ঘন ঘন প্রস্রাব করা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। এটি আসলে এমন একটি অবস্থা যাকে বলা হয় কোল্ড ডিউরেসিস।

ঠান্ডা আবহাওয়া কেন আপনার প্রস্রাব করার প্রয়োজনে এই প্রভাব ফেলে সে সম্পর্কে আরও জানতে পড়ুন।

'কোল্ড ডিউরেসিস' কী?
আপনি যখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে বা ঠান্ডা আবহাওয়ার ক্রিয়াকলাপে অংশ নেওয়ার জন্য আপনার শরীরকে ঠান্ডায় উন্মুক্ত করেন, তখন আপনার রক্তনালীগুলি স্বাভাবিকভাবেই সংকুচিত হয়। এটি ঘটে যাতে আপনার শরীর আপনার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিতে রক্ত ​​​​প্রবাহ পরিচালনা করতে পারে।

আপনার কিডনি আপনার রক্ত ​​থেকে বর্জ্য ফিল্টার করার উপায় হিসাবে প্রস্রাব তৈরি করার জন্য দায়ী। গড় তাপমাত্রার দিনে, আপনার শরীর সাধারণত প্রায় 1 থেকে 2 কোয়ার্ট প্রস্রাব তৈরি করে।

ঠান্ডা আবহাওয়ার ফলে আপনার শরীরকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রক্ত ​​ফিল্টার করতে হবে কারণ রক্ত ​​আপনার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিতে উচ্চতর ফ্রিকোয়েন্সিতে ছুটে চলেছে। এর ফলে আপনাকে প্রায়ই প্রস্রাব করতে হবে। অবশ্যই, এটি একটি বিরক্তিকর প্রক্রিয়া, তবে নিশ্চিত থাকুন যে এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

সম্পর্কিত:

কেন আমি পুরানো আঘাত থেকে আরো ব্যথা অনুভব করি যখন এটি বাইরে ঠান্ডা হয়?
শীতকালে পারফেক্ট মর্নিং রুটিনের জন্য টিপস
এই শীতে অসুস্থ হওয়া এড়ানোর জন্য 6 টি টিপস
ঠান্ডা আবহাওয়ার কুকুরের জাত বিবেচনা করতে হবে
ফাটা শীতের ত্বকের জন্য 7টি প্রাকৃতিক প্রতিকার
মূত্রাশয় কার্যকলাপ একটি বৃদ্ধি সঙ্গে মোকাবিলা
কম জল পান করা বা বাথরুমের বিরতি এড়িয়ে যাওয়া প্রলুব্ধ হতে পারে। যাইহোক, কম জল পান করা একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প নয় এবং এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য ধরে রাখাও নয় আপনি সম্ভবত নিজেকে বেশ অস্বস্তিকর করে তুলবেন এবং মূত্রনালীর সংক্রমণের কারণ হতে পারে। এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন সমস্যা সৃষ্টি করবে যা আপনাকে মোকাবেলা করতে হবে যা অন্য বাথরুম বিরতির চেয়ে অনেক বেশি বিরক্তিকর।

যদিও ঠাণ্ডা ডিউরিসিস স্বাভাবিক, তবুও আপনি যদি শীতকালে বাইরের ক্রিয়াকলাপের মাঝখানে থাকেন তবে আপনার প্রস্রাব করার প্রয়োজনীয়তার দিকে নজর রাখা একটি ভাল ধারণা। পেশাদাররা বিশ্বাস করেন যে বাথরুম ব্যবহারের বর্ধিত প্রয়োজন হাইপোথার্মিয়ার প্রথম লক্ষণগুলির মধ্যে একটি হতে পারে। হাইপোথার্মিয়া একটি জীবন-হুমকির অবস্থা যা আপনার শরীরকে অত্যধিক তাপ হারাতে দেয়। এর ফলে কাঁপুনি, বিভ্রান্তি, শ্বাসকষ্ট এবং মৃত্যু হতে পারে। সুতরাং আপনি যদি ঠান্ডা বাতাসে অনেক সময় ব্যয় করেন এবং নিজেকে অনেক বেশি বাথরুমে যেতে দেখেন তবে দ্রুত একটি উষ্ণ পরিবেশে যান।

এছাড়াও, যেহেতু আপনার শরীর অনেক বেশি তরল ব্যবহার করছে এবং আপনাকে বাথরুম বেশি ব্যবহার করতে হচ্ছে, নিশ্চিত করুন যে আপনি এই তরলগুলি পুনরায় পূরণ করছেন যাতে আপনি ডিহাইড্রেটেড না হন। এটি বাইরে উষ্ণ নাও হতে পারে, তবে এর অর্থ এই নয় যে আপনি আপনার তরল ধরে রাখার নিশ্চয়তা পেয়েছেন।

আপনি যদি এই শীতে কোনো বহিরঙ্গন কার্যকলাপের পরিকল্পনা করছেন, তাহলে আপনার এলাকার সাম্প্রতিক আবহাওয়ার আপডেটের জন্য AccuWeather.com-এর সাথে যোগাযোগ করুন। আপনি সেই অনুযায়ী পোষাক করতে সক্ষম হবেন এবং ঠিক কী আবহাওয়া আশা করবেন তা জানতে পারবেন যাতে আপনি বিপজ্জনকভাবে ঠান্ডা না হন।

ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন বা ইউটিআইঃ
যাকে বলা হয় মূত্রনালির সংক্রমণ।এটা হয়ই বেশিক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখলে ব্লাডারে যে জীবাণু জন্মায় তা থেকে।এটা পরবর্তীতে অন্য সমস্যা তৈরি করে।এবং প্রসাবে জ্বালাপোড়া ঘন ঘন প্রসাব হওয়া সহ প্রস্রাব ফোটায় ফোটায় হতে পারে।এজন্য অবস্যই একজন ইউরোলজিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী ফুল কোর্স অ্যান্টিবায়োটিক ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সেবন করতে হবে।ডাক্তার কিছু পরিক্ষা দিতে পারে অবশ্যই সেগুলো করে নিষ্চিত হতে হবে। 

যৌন বাহিত রোগঃ
এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, আপনার প্রসাবে সমস্যা হওয়ার আগে কারো সাথে অনিরাপদ যৌনমিলনে লিপ্ত হয়েছেন কিনা?যদি ওমন হয় যে অনিরাপদ যৌনমিলনের পর থেকে প্রসাবে সমস্যা, প্রসাব ফোটায় ফোটায় হওয়া, প্রসাবের রাস্তা থেকে পুজ যাওয়াসহ হঠাৎ এমন পরিবর্তন দেখলে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। ডাক্তার কিছু পরিক্ষ্যা দিবে যে অনিরাপদ যৌনমিলনের ফলে কোন যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা।কিছু ব্যাকটেরিয়া ঘঠিত যৌন রোগ,  গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া,সিফিলিস ইত্যাদি।প্রথম অবস্থায় সঠিক চিকিৎসায় এসব রোগ থেকে ৭-১৪ দিনেই সুস্থ হওয়া সম্ভব তাই দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। 

হস্তমৈথুনের কারনে যেসকল সমস্যা হতে পারেঃ
অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল নয়।আর অন্য দিকে ইসলাম হস্তমৈথুন হারাম করে দিয়েছেন।কিন্তু এখনকার জেনারেশন হস্তমৈথুন করে নিজেদের জন্য নিজেরাই বিপদ ডেকে আনছে যার কারনে একটা সময় পড়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে তারা।হস্তমৈথুনের ফলে যেসকল সমস্যা হতে পারে -

১. ইউরিন ইনফেকশন

২. প্রসাবের নালী সরু হয়ে যাওয়া

৩. ধাতু ক্ষয় সহ প্রসাবে জ্বালাপোড়া এবং ঘন ঘন প্রসাব হতে পারে। 

তাই আপনি যদি অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করে থাকেন তাহলে অবশ্যই এসকল অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।এবং সমস্যার সমাধানের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।  

কিডনি সমস্যাঃ
প্রসাবের অন্যতম কারন হতে পারে কিডনি সমস্যা।কারন কিডনিতে সমস্যা থাকলেও বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব ক্লিয়ার হয়ে না হওয়া, রাতে বারবার ঘুম থেকে প্রস্রাবের জন্য উঠা, প্রস্রাবের সঙ্গে পুঁজ যাওয়া, রক্ত যাওয়া, পাথরের গুঁড়ো যাওয়া, তলপেটে ব্যথা, পাঁজরে ব্যথা ইত্যাদি কিডনি রোগের লক্ষনও বটে তাই যদি এমন সমস্যা এক সাথে দেখা দেয় বা দীর্ঘসময় থাকে অবশ্যই ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দিয়ে ডাক্তার দেখাবেন। 

মূত্রনালী সরু হলে করণীয়ঃ
মূত্রনালীর সরু হলে চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন কারন প্রসাব ক্লিয়ার না হলে কিডনিতে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।এবং সেই সাথে পানি ও তরল খাবার গ্রহন করতে হবে। প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি।একে বলা হয় বিনাইন প্রস্টেট এনলার্জমেন্ট বা বিইপি।বয়সের সঙ্গে প্রস্টেট গ্রন্থির স্ফীতি ঘটে।পঞ্চাশোর্ধ পুরুষের এটি একটি সাধারণ সমস্যা।বলা হয় যে পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরন শুষে নেওয়ার কারণেই প্রস্টেট গ্রন্থির এই অনাকাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি।আর এই স্ফীতির কারণে মূত্রপথ সরু হয়ে যায়, চাপ পড়ে মূত্রথিল ও এর আশপাশের স্নায়ুর ওপরও।এ কারণে দেখা দেয় নানা সমস্যা।এছাড়াও প্রস্রাব শুরু করতেই সমস্যা, গতি কমে আসা বা হঠাৎ মাঝখানে আটকে যাওয়া-প্রস্রাব করার পর অসম্পূর্ণ মনে হওয়া -অনিচ্ছাকৃত প্রস্রাব ফোঁটায় ফোঁটায় বের হয়ে যাওয়া -কখনো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তও যেতে পারে।এমন সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে এবং সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে।  

প্রস্রাব হলুদ হওয়াঃ
প্রসাব হলুদ হওয়া একটু কমন সমস্যা দেখা গেছে পানি কম খেলে প্রস্রাবের রঙ হলুদ হতে পারে তাই বেশি বেশি পানি পান করতে হবে। তারপরও যদি কাজ না হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারন প্রসাবের সমস্যা অন্য কোন রোগের উপসর্গও হতে পারে যেমন লিভার, কিডনি, জন্দিস ইত্যাদি।
 
প্রস্রাবের সাথে রক্ত গেলেঃ
প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে যে কারই চমকে যাওয়ার কথা কারন রক্ত যাওয়া মানেই চিন্তার বিষয়। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে হবে।
 
প্রসাব ক্লিয়ার করার উপায়ঃ 
১. প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে 
২. খাবারের তালিকায় ভিটামিন সি জাতীয় খাবার রাখতে হবে যেমন লেবু
৩. তরল খাবার খেতে হবে 
৪. মসলা জাতীয় খাবার কম খেতে হবে 
৫. হস্তমৈথুনের অভ্যাস থাকলে তা পরিত্যাগ করতে হবে 
৬. মানুষিক চিন্তা দূর করতে হবে এবং চিন্তামুক্ত থাকতে হবে 
৭.প্রস্রাবের পারে টিসু ব্যবহার করতে হবে 
৮. পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। 
৯. অনিরাপদ যৌনমিলন থেকে বিরত থাকতে হবে 
১০. সময় মত ঘুমাতে হবে।.. 
অবস্থার উন্নতি না হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এবং পুরো ইতিহাস বলতে হবে।
তথ্যসূত্রঃ অনলাইন নিউজ প্রথম আলো, সময় নিউজ, ইত্যাদি।


অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?