প্রস্রাব ঘন ঘন হওয়া জ্বালাপোড়া করা বা মূত্রনালীর সমস্যাকে অবহেলা নয়

প্রস্রাবে সমস্যা একটি কমন সমস্যা যা সকল বয়সের ছেলে মেয়েরই হতে পারে । তবে দৈনন্দিন জীবনে প্রসাবে সমস্যা হওয়ার সাধারণ কিছু কারন থাকে জটিল কোন অসুখ না হলে এসকল সমস্যা অতিরিক্ত পানি খেলে এবং মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করলে সমাধান হয়ে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রসাবের সমস্যায় গুরুত্ব দেয়া উচিত। আজ প্রসাবের এসকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে যারা প্রসাবের সমস্যায় ভুগছেন তারা অবশ্যই সময় নিয়ে পড়বেন আসাকরি উপকৃত হবেন। 

প্রসাবে জ্বালাপোড়া প্রস্রাব ক্লিয়ার না হওয়া, প্রস্রাব আটকে থাকা, মূত্রনালী সরু হয়ে যাওয়া, ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব হওয়া, প্রসাবের রঙ লাল হওয়া বা প্রসাবের রাস্তায় ব্যাথা হওয়ার নানা কারন থাকে এর মধ্যে আপনার সাথে কোন সমস্যা মিলে গেলে অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে পড়বেন। 

ঘন ঘন প্রসাব হওয়া, প্রসাবের নালী সরু হওয়ার কারন, ঘরোয়া উপায়, প্রসাবের বেগ,
urine infraction

ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন বা ইউটিআইঃ

যাকে বলা হয় মূত্রনালির সংক্রমণ। এটা হয়ই বেশিক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখলে ব্লাডারে যে জীবাণু জন্মায় তা থেকে। এটা পরবর্তীতে অন্য সমস্যা তৈরি করে। এবং প্রসাবে জ্বালাপোড়া ঘন ঘন প্রসাব হওয়া সহ প্রস্রাব ফোটায় ফোটায় হতে পারে। এজন্য অবস্যই একজন ইউরোলজিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী ফুল কোর্স অ্যান্টিবায়োটিক ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সেবন করতে হবে। ডাক্তার কিছু পরিক্ষা দিতে পারে অবশ্যই সেগুলো করে নিষ্চিত হতে হবে। 

যৌন বাহিত রোগঃ

এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, আপনার প্রসাবে সমস্যা হওয়ার আগে কারো সাথে অনিরাপদ যৌনমিলনে লিপ্ত হয়েছেন কিনা? যদি ওমন হয় যে অনিরাপদ যৌনমিলনের পর থেকে প্রসাবে সমস্যা, প্রসাব ফোটায় ফোটায় হওয়া, প্রসাবের রাস্তা থেকে পুজ যাওয়া সহ হঠাৎ এমন পরিবর্তন দেখলে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। ডাক্তার কিছু পরিক্ষ্যা দিবে যে অনিরাপদ যৌনমিলনের ফলে কোন যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা। কিছু ব্যাকটেরিয়া ঘঠিত যৌন রোগ,  গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া, সিফিলিস ইত্যাদি। প্রথম অবস্থায় সঠিক চিকিৎসায় এসব রোগ থেকে ৭-১৪ দিনেই সুস্থ হওয়া সম্ভব তাই দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। 

হস্তমৈথুনের কারনে যেসকল সমস্যা হতে পারেঃ

অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল নয়। আর অন্য দিকে ইসলাম হস্তমৈথুন হারাম করে দিয়েছেন।  কিন্তু এখনকার জেনারেশন হস্তমৈথুন করে নিজেদের জন্য নিজেরাই বিপদ ডেকে আনছে যার কারনে একটা সময় পড়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে তারা। হস্তমৈথুনের ফলে যেসকল সমস্যা হতে পারে -

১. ইউরিন ইনফেকশন

২. প্রসাবের নালী সরু হয়ে যাওয়া

৩. ধাতু ক্ষয় সহ প্রসাবে জ্বালাপোড়া এবং ঘন ঘন প্রসাব হতে পারে। 

তাই আপনি যদি অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করে থাকেন তাহলে অবশ্যই এসকল অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। এবং সমস্যার সমাধানের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।  

কিডনি সমস্যাঃ

প্রসাবের অন্যতম কারন হতে পারে কিডনি সমস্যা। কারন কিডনিতে সমস্যা থাকলেও বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব ক্লিয়ার হয়ে না হওয়া, রাতে বারবার ঘুম থেকে প্রস্রাবের জন্য উঠা, প্রস্রাবের সঙ্গে পুঁজ যাওয়া, রক্ত যাওয়া, পাথরের গুঁড়ো যাওয়া, তলপেটে ব্যথা, পাঁজরে ব্যথা ইত্যাদি কিডনি রোগের লক্ষনও বটে তাই যদি এমন সমস্যা এক সাথে দেখা দেয় বা দীর্ঘসময় থাকে অবশ্যই ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দিয়ে ডাক্তার দেখাবেন। 

মূত্রনালী সরু হলে করণীয়ঃ

মূত্রনালীর সরু হলে চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন কারন প্রসাব ক্লিয়ার না হলে কিডনিতে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। এবং সেই সাথে পানি ও তরল খাবার গ্রহন করতে হবে। প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি। একে বলা হয় বিনাইন প্রস্টেট এনলার্জমেন্ট বা বিইপি। বয়সের সঙ্গে প্রস্টেট গ্রন্থির স্ফীতি ঘটে। পঞ্চাশোর্ধ পুরুষের এটি একটি সাধারণ সমস্যা। বলা হয় যে পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরন শুষে নেওয়ার কারণেই প্রস্টেট গ্রন্থির এই অনাকাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি। আর এই স্ফীতির কারণে মূত্রপথ সরু হয়ে যায়, চাপ পড়ে মূত্রথিল ও এর আশপাশের স্নায়ুর ওপরও। এ কারণে দেখা দেয় নানা সমস্যা। এছাড়াও প্রস্রাব শুরু করতেই সমস্যা, গতি কমে আসা বা হঠাৎ মাঝখানে আটকে যাওয়া -প্রস্রাব করার পর অসম্পূর্ণ মনে হওয়া -অনিচ্ছাকৃত প্রস্রাব ফোঁটায় ফোঁটায় বের হয়ে যাওয়া -কখনো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তও যেতে পারে। এমন সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে এবং সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে।  

প্রস্রাব হলুদ হওয়াঃ

প্রসাব হলুদ হওয়া একটু কমন সমস্যা দেখা গেছে পানি কম খেলে প্রস্রাবের রঙ হলুদ হতে পারে তাই বেশি বেশি পানি পান করতে হবে। তারপরও যদি কাজ না হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারন প্রসাবের সমস্যা অন্য কোন রোগের উপসর্গও হতে পারে যেমন লিভার, কিডনি, জন্দিস ইত্যাদি। 

প্রস্রাবের সাথে রক্ত গেলেঃ

প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে যে কারই চমকে যাওয়ার কথা কারন রক্ত যাওয়া মানেই চিন্তার বিষয়। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে হবে। 

প্রসাব ক্লিয়ার করার উপায়ঃ 

১. প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে 
২. খাবারের তালিকায় ভিটামিন সি জাতীয় খাবার রাখতে হবে যেমন লেবু
৩. তরল খাবার খেতে হবে 
৪. মসলা জাতীয় খাবার কম খেতে হবে 
৫. হস্তমৈথুনের অভ্যাস থাকলে তা পরিত্যাগ করতে হবে 
৬. মানুষিক চিন্তা দূর করতে হবে এবং চিন্তামুক্ত থাকতে হবে 
৭.প্রস্রাবের পারে টিসু ব্যবহার করতে হবে 
৮. পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। 
৯. অনিরাপদ যৌনমিলন থেকে বিরত থাকতে হবে 
১০. সময় মত ঘুমাতে হবে। 

অবস্থার উন্নতি না হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এবং পুরো ইতিহাস বলতে হবে।

তথ্যসূত্রঃ অনলাইন নিউজ প্রথম আলো, সময় নিউজ, ইত্যাদি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ