Radio Shadhin Desh https://www.radioshadhindesh.com/2021/10/kochthkathinno.html

কোষ্ঠকাঠিন্য বা পায়খানা বন্ধ হলে কি করতে হবে | কি খেলে মল নরম হবে দেখুন

কোষ্ঠকাঠিন্য বা পায়খানা বন্ধ হলে কি করতে হবে | কি খেলে মল নরম হবে দেখুন

কোষ্ঠকাঠিন্য মানেই বিরক্তিকর একটি বেপার এটি ছোট বড় সবারই হতে পারে।কোষ্ঠকাঠিন্য মানেই পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়া বা কষা হওয়া।পায়খানা না হওয়ার বা কষা হওয়ার সহ মল শক্ত ও ছোট আকারের হয় পায়খানার চাপ আসে না।পেটে চাপ বা কোত দিয়ে মলত্যাগ করতে হয় আবার অনেক সময় পায়খানা কষা হলে মলের সাথে রক্ত পড়তে পাড়ে এবং করার পরও অস্বস্তিকর অনুভূতি হয়। এছাড়াও পেট ফাপ দিয়ে থাকা বা বমিও হতে পারে। আজ আপনাদের পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়ার কিছু কারন বলব। 

পায়খানা কষা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারনঃ

১. পানি কম খাওয়া 
২. আঁশজাতীয় বা ফাইবার যুক্ত খাবার,শাক-সবজি ও ফলমূল কম
৩. দুগ্ধজাত খাবার অত্যাধিক পরিমাণে খেলে
৪. কোন শারিরিক পরিশ্রম না করে সারাদিন শুয়ে বসে থাকলে 
৫. অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা অবসাদের ফলে
৬. অন্ত্রনালীতে ক্যান্সার হলে
৭. ডায়াবেটিস হলে
৮. খাবার ঠিক মত চিবিয়ে না খেলে 
৯. মসলাযুক্ত খাবার বেশি খেলে 
১০. পায়খানার বেগ পেলে চেপে রাখলে বা সময় মত পায়খানা না করলে।

পায়খানা কষা হলে কি ঔষধ খাবেনঃ

পায়খানা কষা হলে বা একদমই না হলে প্রথম অববস্থায় বা ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে কোন ঔষধ খাওয়া যাবে না।  আগে জানতে হবে পায়খানা না হওয়ার বা কষা হওয়ার কারনটা আসলে কি। তবে প্রথমে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায় বেছে নিতে হবে। 
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায়ঃ
১.প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পানি পান করতে হবে বা ইসুব গুলের ভুশি এবং সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করতে হবে।
২.মসলাযুক্ত খাবার বা ভাজাপোড়া এরিয়ে চলতে হবে। 
৩.প্রতিদিন নিয়ম করে কিছু সময় হাটাচলা বা হালকা বেয়াম করতে হবে।
৪.খাবারের তালিকায় শাকসবজি থাকতে হবে।
৫.প্রতিদিন কলা খেতে পারেন কলায় পায়খানা ক্লিয়ার হয়।
অবস্থার উন্নতি না দেখলে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ মত চিকিৎসা নিতে হবে। 

কোষ্ঠকাঠিন্য কি?

কোষ্ঠকাঠিন্য এমন একটি অবস্থা যা অত্যন্ত শক্ত, কাদামাটির মতো মল সৃষ্টি করে যা বেদনাদায়ক বা পাস করা কঠিন। চিকিৎসাগতভাবে, একজন ব্যক্তির কোষ্ঠকাঠিন্য ধরা পড়ে যদি মলত্যাগ সপ্তাহে তিনবারের কম হয়। একটি অন্ত্রের কর্মহীনতা হিসাবে, কোষ্ঠকাঠিন্য যথেষ্ট সংখ্যক প্রাপ্তবয়স্কদের প্রভাবিত করে, জীবনধারার বিভিন্ন কারণের কারণে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর মধ্যে ভুল খাদ্য, আচরণ বা কখনও কখনও অন্তর্নিহিত চিকিৎসা শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই অবস্থাটি শিশুদের মধ্যেও দেখা যায়।

নবজাতক থেকে বাচ্চা পর্যন্ত, কোষ্ঠকাঠিন্য কিছু বাচ্চাদের বিরক্ত করতে পারে যাদের একই রকমের স্বাভাবিক প্রবণতা বেশি হতে পারে। এটি তাদের পরিপাকতন্ত্রের কাজ, নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি তাদের শরীরের প্রতিক্রিয়া বা অন্যান্য কারণ যেমন তরল বা খাদ্য গ্রহণের কারণে হতে পারে। যদিও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে চিকিত্সাযোগ্য, এটি ইতিবাচক অভ্যাস তৈরি করা আদর্শ যা আপনার শিশুর একটি সুস্থ অন্ত্র ব্যবস্থার দিকে পরিচালিত হয়।

যদিও কোষ্ঠকাঠিন্য শিশুদের একটি সাধারণ সমস্যা নয়, এটি ঘটতে পারে। এবং একটি শিশু এটি সম্পর্কে আপনাকে বলতে সক্ষম নাও হতে পারে, যেহেতু তারা তাদের বাচ্চাদের বয়সে প্রবেশ করে, বারবার কোষ্ঠকাঠিন্যযুক্ত মল সম্পূর্ণ অন্ত্র পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ার সাথে সন্তানের জন্য একটি নেতিবাচক সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। ফলস্বরূপ, এটি তাদের আঘাতমূলক অভিজ্ঞতা থেকে বাঁচতে তাদের অন্ত্রকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে পারে, যা অবস্থাকে আরও খারাপ করতে পারে।

একটি কোষ্ঠকাঠিন্য শিশু পরপর কয়েক দিন মলত্যাগ করতে পারে না। কখনও কখনও, বারবার কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে, মলদ্বারের পেশী বা অ্যানাল স্ফিঙ্কটার তার সংকোচনের শক্তি হারাতে পারে যার ফলে মলদ্বার অসংযম হয়। এর অর্থ হল মলদ্বারের কাছের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয় যার ফলে গ্যাস যাওয়ার সময় মাঝে মাঝে মল ফুটো হয়ে যায় বা চরম অবস্থায়, মলদ্বার নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়।
কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ

একটি শিশু দিনের জন্য মল পাস না করা এখনও একটি সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে না। যাইহোক, যদি মলত্যাগের সময় শিশুটি খুব অস্বস্তিকর এবং খামখেয়ালী হয়ে ওঠে, তাহলে পিতামাতার আরও মনোযোগ দিতে হবে।

মলের টেক্সচারের যত্ন সহকারে পর্যবেক্ষণ একজন পিতামাতাকে বুঝতে সাহায্য করতে পারে যে সন্তানের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে কিনা। শিশুদের মধ্যে, মলের ফ্রিকোয়েন্সি তাদের অন্ত্রের কার্যকারিতা সম্পর্কে একটি বড় অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করতে পারে না।

এই পরিস্থিতিতে অবদান রাখার জন্য বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে

1. কঠিন খাবার
একটি শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া অস্বাভাবিক নয় যখন তাদের ক্ষুদ্র পরিপাকতন্ত্র শক্ত খাবারের সাথে পরিচিত হয়। যে খাবারগুলি শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হয় তার মধ্যে রয়েছে কলা, চাল, সিরিয়াল, পনির এবং গাজর যা পুষ্টিকর হতে পারে তবে ফাইবারের অভাব রয়েছে যা ভাল অন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। তাই, এটি ছোট অংশ দিয়ে শুরু করতে সাহায্য করে এবং খাদ্যতালিকাগত রুগেজ যোগ করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার অফার করে।

2. সূত্র
ফর্মুলা দুধের প্রোটিন উপাদান আপনার শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে এবং কখনও কখনও বিভিন্ন উপাদানের সংমিশ্রণে ব্র্যান্ড পরিবর্তন করা পরিস্থিতিকে সাহায্য করতে পারে। সাধারণ বিশ্বাসের বিপরীতে, ফর্মুলা দুধে থাকা আয়রন কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য দায়ী বলে পাওয়া যায়নি।

3. ডিহাইড্রেশন
যদিও আপনার নবজাতক শিশু প্রাথমিকভাবে তরল খাদ্যে থাকতে পারে, তবে সে একচেটিয়াভাবে বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ পান করে। তিনি এখনও হাইড্রেটেড থাকার জন্য পর্যাপ্ত তরল পেতে পারেন না। এই ধরনের ক্ষেত্রে, অন্ত্র থেকে জলের উপাদান শরীরে শোষিত হয়, ফলস্বরূপ, পায়খানা শক্ত করে। খাওয়ানোর সেশনের পরে কয়েক চুমুক জল বা জুস দেওয়া আপনার শিশুকে ভালভাবে হাইড্রেটেড রাখা নিশ্চিত করতে পারে। যদিও ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে, শুধুমাত্র বুকের দুধ বা ফর্মুলা পরামর্শ দেওয়া হয়, একটি কোষ্ঠকাঠিন্য শিশুর জন্য, এই প্রতিকারটি কিছুটা অবকাশ দিতে পারে।

বাচ্চাদের পায়খানা না হলে কি করবঃ

বাচ্চাদের নিয়মিত পায়খানা না হলে মানে দিনে অন্তত একবার পায়খানা না হলে সেই সাথে বাচ্চাকে অসুস্থ বা অখুসি লাগলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে কারন ফর্মুলা খাওয়ানো বাচ্চাদের দিনে অন্তত একবার মলত্যাগ করা স্বাভাবিক। এধরনের বাচ্চা যদি ২ দিনের বেশি সময় ধরে পায়খানা না করে তাহলে ধরে নিতে হবে বাচ্চার কোষ্ঠকাঠিন্য আছে।  

পায়খানা কালো হওয়ার কারণঃ

কালো রঙের চকোলেট বা কোন খাবারের কারনে মলের কালার পরিবর্তন হতে পারে।তবে খেয়াল রাখতে হবে আপনার পায়খানা নরম বা ক্লিয়ার হচ্ছে কিনা।যদি পায়খানা ঠিক মত না হয় পায়খানা শক্ত বা অল্প পরিমানে হয় তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা ধরে নেয়া যেতে পারে৷ 

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে বা পায়খানা না হলে কি কি সমস্যা হয়ঃ

কোষ্ঠকাঠিন্য এমনিতেই একটি বিরক্তিকর অসুখ কিন্তু এর বাইরেও কোষ্ঠকাঠিন্য এর কারনে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমন -রক্তাল্পতা, অবসাদ(ক্লান্তি),অনিদ্রা,চোখে ব্যথা,চোখের নিচে কালি পড়া,মাথা ঘোরা,কোমর ব্যথা,ক্রমান্বয়ে আলস্য বৃদ্ধি পাওয়া এবং মনোযোগ হ্রাস পাওয়া ইত্যাদি। 
যদি এমন সমস্যা গুলো আপনার মধ্যে থাকে তাহলে উপরের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের অভ্যাস পরিবর্তন করুন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিন আসা করি আল্লাহ সুস্থ করে দিবেন।  

তথ্যসূত্রঃ প্রথমালো, জী বাংলা নিউজ,  যুগান্তর ইত্যাদি।


অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?