গ্যাস্ট্রিক এর ব্যাথা কোথায় কোথায় হয়? গ্যাস্ট্রিক হলে কি কি সমস্যা হয় এবং সমাধান কি?

গ্যাস্ট্রিকের সাথে এখন কম বেশি সবাই পরিচিত। কারন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা নেই বা গ্যাস্ট্রিক নেই এমন মানুষ খুব কমই আছে। এটি একটি অসহ্যকর অসুখ কারন গ্যাস্ট্রিকের কারনে পেট ফুলে থাকা, পেটে ব্যাথা হওয়া, বুকে ব্যাথা হওয়া সহ নানা রকম সমস্যা দেখা যায়। যে কারনে যাদের অতিরিক্ত তেল এবং ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া হয় তাদের জন্য প্রতিদিনের একটি যন্ত্রনাদায়ক সমস্যা এটি। কারন অতিরিক্ত গ্যাস এর কারনে পায়খানাও ক্লিয়ার হতে চায় না। বা পায়খানা নাও হতে পারে তাই যারা এ সমস্যা ভুগছে সবার একটাই প্রশ্ন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধানের উপায় কি? আজ আপনাদের মাঝে তুলে ধরন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা সরিরের যে সব যায়গায় হতে পাড়ে এবং আরো যে সব সমস্যা হতে পাড়ে তা নিয়ে বিস্তারিত। 

গ্যাস্ট্রিক কেন হয়?

গ্যাস্ট্রিক নানা রকম খাবারের জন্য হতে পাড়ে এর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে -

১. অতিরিক্ত এলকোহলের ব্যবহার। 

২. দীর্ঘদিন ধরে ব্যাথা নাসক ঔষধ সেবন। 

৩. ভাজাপোড়া খাওয়া 

৪. তৈলাক্ত এবং অতিরিক্ত মসলা জাতীয় খাবার খাওয়া

৫.সময় মত না খাওয়া ইত্যাদি। 

গ্যাস্ট্রিক এর ব্যাথা কোথায় কোথায় হয়?

গ্যাস্ট্রিক হলে পেটের ওপরের দিকে সারা দিন অল্প অল্প ব্যথা হয়, পেটে জ্বালাপোড়া করে, অনেক সময় বুক জ্বলা বা বুকে ব্যাথাও হতে পাড়ে।

গ্যাস্ট্রিক হলে কি কি সমস্যা হয়?

গ্যাস্ট্রিকের কারনে অনেক রকম সমস্যা হতে পারে তার মধ্যে যে সব সমস্যা বেশি ভোগায় তার মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে -

১. বদহজম 

২.পেটে ব্যাথা, 

৩. অসুস্থ বোধ করা বা অসুস্থ হয়ে যাওয়া

৪. খাওয়ার পড়ে অসুস্থ লাগা

৫. বমি ভাব বা পেটে অসস্থি ভাব

৬. অতিরিক্ত গ্যাস হওয়া

৭. পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়া

৮. বুকে জালা পোড় ইত্যাদি।

চিরতরে গ্যাস্ট্রিক দূর করার উপায়ঃ

গ্যাস্ট্রিক নিয়ন্ত্রনের মাধ্যম হিসেবে সবাই ট্যাবলেট বা ক্যাপসুলকেই বেছে নেয়।  হয়ত কিছু সময় ঠিক থাকে বা কিছু দিন ঠিক থাকে তারপর আবার সেই সমস্যা দেখা দেয় কারন আমরা গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খাচ্ছি ঠিকই কিন্তু সে সব খাবারের কারনে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয় সেসব খাবার প্রতিনিয়ত খেয়েই যাচ্ছি। তাই গ্যাস্ট্রিক নিয়ন্ত্রনের জন্য খাবারের কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। 

গ্যাস্ট্রিক হলে কি কি খাওয়া যাবে না?

অতিরিক্ত এলকোহল ত্যাগ করতে হবে। আমরা বেড় হলেই চোখের সামনে নানা রকম ভাজাপোড়া যেমন ফুচকা, চটপটি, পুড়ি,  সিজ্ঞারা, ইত্যাদি সহ নানা খাবারের প্রতি আকর্ষণ চলে যায় কিন্তু এগুলো নিয়মিত খাওয়ার কারনে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। তাই এসকল ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তার সাথে সাথে তৈলাক্ত খাবার এবং অতিরিক্ত মসলা জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ৬-৭ দিনের বেশি সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। 

গ্যাস্ট্রিক রোগীর খাবার তালিকাঃ

গ্যাস্ট্রিক রোগীর খাবারের উপর বিশেষ নজর দিতে হবে। কারন এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পেতে। গ্যাস্ট্রিক রোগীর যেসব খাবার বেশি বেশি খাইয়া উচিৎ তার মধ্যে কিছু খাবারের তালিকা - শসা, দই, পেঁপে, কমলা, কলা, আদা, ঠান্ডা দুধ, দারুচিনি, জিরা, লবঙ্গ, এলাচ, পুদিনা পাতার পানি, আমড়া, মৌরির পানি, ইত্যাদি 

গ্যাস্ট্রিক এর ঔষধঃ 

সমস্যা বেশি মনে হলেও প্রথম অবস্থায় নিজের ইচ্ছামত বেশি পাওয়ার এর ঔষধ খাওয়া যাবে না। ফার্মেসিতে বা কোন ডাক্তারের সাথে আপনার সমস্যার তিব্রতা সম্পর্কে বলুন এবং নিয়ম মেনে ঔষধ সেবন এবং উপরের নিয়ম অনুযায়ী খাবার নির্বাচন করুন। 

কিছু পরামর্শঃ

যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেশি তারা অবশ্যই তরল খাবার খাবেন, খাবার তালিকায় শাকসবজী রাখতে হবে, অতিরিক্ত পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন হালকা বেয়াম করতে হবে, সময় মত ঘুমাতে হবে এবং চিন্তামুক্ত থাকতে হবে। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ